লেখক : কাজী আনোয়ার হোসেন
প্রকাশনী : সেবা প্রকাশনী
বইয়ের নাম্বার : ১০
প্রকাশকাল :

রানা! সাবধান!!


চট্ করে সরে গেল রানা লাস-কাটা ঘরের একটা মোটা খামের আড়ালে। আবার সেই অস্ফুট গোঙানির শব্দটা কানে এল ওর। ব্যাপার কি? অন্ধকারে কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না ভালমত। কিন্তু আওয়াজটা যে ব্যারাকের মধ্যে থেকেই এসেছে তাতে কোন সে ন্দহ নেই। লাস-কাটা ঘরের ঠিক পিছনেই অফিসারস্ ব্যারাক। আজই সন্ধ্যায় ব্যারাকটা খালি করে বারোজন ভারতীয় সামরিক অফিসার চলে গেছে  সেই ফাঁকা
ব্যারাকের মধ্যে মানুষের গলার আওয়াজ কেন? কে কাতরাচ্ছে ওখানে?

কোনও ট্র্যাপ? ধরা পড়ে গেল সে?

সন্তর্পণে চাইল রানা চারপাশে। সময়টা উনিশশো পঁয়ষট্টি সালের চৌঠা
অক্টোবর। যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণার পর থেকেই ধীরে ধীরে তুলে ফেলছে ওরা
আম্বালা হাসপাতাল-ঘেরা অস্থায়ী সৈন্য-শিবির। কিন্তু প্রহরার ব্যবস্থায়
ঢিলেমি নেই একবিন্দু। দূরে সাব-মেশিনগান হাতে কয়েকজন সেন্ট্রি দাঁড়িয়ে
আছে পাথরের মূর্তির মত। শিবিরের চারদিকে উঁচু তারের বেড়া। দশ হাত
অন্তর অন্তর বেড়ার গায়ে পাঁচশো পাওয়ারের বালব ঝুলিয়ে দিয়ে দুর্ভেদ্য
করা হয়েছে। তার ওপর আটজন সশস্ত্র সেন্ট্রি সর্বক্ষণ টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে
পুরো এলাকা।
আবার এল শব্দটা। সেইসাথে অস্পষ্ট একটা ধস্তাধস্তির আওয়াজ।
অন্ধকারে গা-ঢাকা দিয়ে নিঃশব্দ পায়ে এগোল রানা ব্যারাকের দিকে।
ব্যারাকের ভিতরে আলো নেই। কিন্তু সামনের খানিকটা অংশে আলো
পড়েছে একপাশ থেকে। বুকে হেঁটে পার হয়ে এল রানা জায়গাটুকু। এইবার
স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে ধস্তাধস্তির আওয়াজ। একটা খোলা জানালার সামনে
ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল রানা। ঘরের ভিতর চেয়েই চক্ষুস্থির হয়ে গেল ওর।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


ডাউনলোড করুন

Post a Comment

Your email is never published nor shared. Required fields are marked *

*
*