অভিষেক কবিতার উৎস কি?

প্রিয় ছাত্রছাত্রী
দশম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য কবিতা হল মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিবেচিত অভিষেক নামক কাব্যাংশটি |এবছর মাধ্যমিকে এই কবিতা থেকে  বড় প্রশ্ন অবশ্যই হবে|সেই বিষয়টিকে নজর রেখে এই অংশে ছাত্র-ছাত্রীদের উপযোগী করে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সহজ সরল ভাষায় করে দেওয়া আছে | আশা করছি ছাত্র-ছাত্রীদের এই উত্তরের ভাষাগুলি এবং উত্তর লেখার ধরনটি খুবই ভালো লাগবে|ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধ তোমরা উত্তর লেখার কৌশলটি ভালো করে লক্ষ্য কর| মাধ্যমিকের অন্যান্য বিষয়ের সাজেশন দেখতে – click here

অভিষেক কবিতা mcq প্রশ্নোত্তর

১) “এ অদ্ভুত বারতা, ………”- এখানে যে বিষয়টিকে অদ্ভুত বলা হয়েছে-

  1. কুম্ভকর্ণের মৃত্যু সংবাদ
  2. বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ
  3. রাবণের যুদ্ধে যাওয়ার সংবাদ
  4. রামচন্দ্রের মারা যাওয়ার সংবাদ
    উঃ খ) বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ

২) “কি কহিলা ভগবতী..”-  বক্তা যাকে ভগবতী বলেছেন-

  1. লক্ষ্মী
  2. প্রমিলা
  3. মন্দোদরী
  4. সরস্বতী
    উঃ ক)লক্ষ্মী

৩) “ত্বরায় আমি ……. কল্যাণী”-  বক্তা কাকে কল্যাণী বলে সম্বোধন করেছেন?

  1. ধাত্রী মাতাকে
  2. লক্ষ্মী দেবীকে
  3. প্রমিলাকে
  4. সরস্বতীকে
    উঃ গ) প্রমিলাকে

৪) “বিদায় এবে …. বিধিমুখী”- এখানে কাকে বিধিমুখী বলা হয়েছে?

  1. প্রভাষাকে
  2. লক্ষ্মীকে
  3. সরস্বতীকে
  4. প্রমিলাকে
    উঃ ঘ) প্রমিলাকে

৫) মূল কাব্যের কোন স্বর্গ থেকে অভিষেক কবিতাটি গৃহীত হয়েছে ?

  1. প্রথম সর্গ
  2. ষষ্ঠ স্বর্গ
  3. অষ্টম স্বর্গ
  4. নবম স্বর্গ
    উঃ ক)প্রথম সর্গ

৬) “বৈরীদল …. স্বর্ণলংকা”- বৈরীদল শব্দের অর্থ-

  1. মিত্রপক্ষ
  2. শত্রুদল
  3. সৈন্যদল
  4. নারীদল
    উঃ খ) শত্রুদল

৭) “কহিলা কাঁদিয়া ধনি”- ধনি শব্দটির অর্থ-

  1. সুন্দরী রমণী
  2. পতি সোহাগিনী
  3. বিত্তবান মহিলা
  4. ঐশ্বর্যশালী মহিলা
    উঃ ক)সুন্দরী রমণী

৮) “নাদিলা কর্বুরদল”- কর্বুরদল শব্দটির অর্থ-

  1. শত্রু দল
  2. সৈন্যদল
  3. মিত্রপক্ষ
  4. রাক্ষসদল
    উঃ ঘ) রাক্ষসদল

৯) “রত্নাকর ….. ইন্দিরা সুন্দরী”- ইন্দিরা সুন্দরী হলেন-

  1. লক্ষ্মী দেবী
  2. প্রভাষা
  3. মন্দোদরী
  4. প্রমিলা
    উঃ ক)লক্ষ্মী দেবী

১০) “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি”-, লংকা এবং জলধি কেঁপে ওঠার কারণ-

  1. সৈন্যদলের হুংকার
  2. ইন্দ্রজিতের টংকারধ্বনি
  3. রাক্ষস দলের হুংকার
  4. রথের আওয়াজ
    উঃ খ) ইন্দ্রজিতের টংকারধ্বনি

অভিষেক কবিতা অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

১) “এ মায়া, …. বুঝিতে না পারি”-  মায়া বলতে বক্তা কি বুঝিয়েছেন ? অথবা; কোন  মায়া বক্তা বুঝতে পারেননি ? অথবা; উদ্দিষ্ট ব্যক্তি মায়া বুঝে উঠতে পারেননি কেন ?
উঃ)  ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে রাত্রিকালীন যুদ্ধে পরাজিত করেছেন, অথচ রামচন্দ্র, পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন। রামচন্দ্রের এই মরে গিয়েও, জীবিত হয়ে ওঠার মায়া ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারেন না।

২) “এ অদ্ভুত বারতা,……. তুমি”- বক্তা বার্তাটিকে অদ্ভুত বলেছেন কেন ? অথবা; বার্তাটি বক্তার কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে কেন ?
উঃ মেঘনাদ নিশারনে, রামচন্দ্রকে সংহার করেছেন অথচ তার ভ্রাতা বীরবাহ রামচন্দ্রের হাতে মৃত হয়েছেন। ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশী লক্ষ্মী দেবীর মুখে এই বার্তাকেই ইন্দ্রজিৎ অদ্ভুত বার্তা বলেছেন।

৩) “রুষিবেন দেব অগ্নি”- অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন কেন?
উঃ)  পুত্র মেঘনাদ থাকতে, পিতা রাবণ যদি যুদ্ধে যান, তবে জগতে কলঙ্ক ঘুষিবে এবং তাদের ইষ্ট দেবতা অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন।

৪) “এ কলঙ্ক, …… ঘুষিবে জগতে”-  বক্তা এখানে কোন বিষয়টিকে কলঙ্ক বলে উল্লেখ করেছেন? 
উঃ বীরপুত্র মেঘনাদ থাকতে যদি তার পিতা রাক্ষসরাজ রাবণ রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান, তাহলে এটা কলঙ্ক হবে এবং এই কলঙ্ক জগতে ঘুষিবে।

৫) “হা দিক মোরে”- বক্তা নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন কেন?
উঃ শত্রুপক্ষ স্বর্ণ লঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে। আর লঙ্কার এই বিপদের দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ কাননে বামাদল মাঝে অর্থাৎ নারীদের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন – তাই বীরচেতা ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

৬) “ছদ্মবেশী অম্বুরাশি সুতা”- অম্বুরাশি সূতা কে? তাকে অম্বুরাশি সুতা বলা হয় কেন?
উঃ “অম্বুরাশি” শব্দের অর্থ সমুদ্র এবং “সুতা” শব্দের অর্থ কন্যা। সমুদ্র মন্থনের সময় লক্ষ্মী দেবীর উত্থান হয়েছিল বলে, লক্ষ্মী দেবীর আরেক নাম অম্বুরাশি সুতা।

৭) “ছদ্মবেশী অম্বুরাশি সুতা”- কেন ইন্দ্রজিতের কাছে এসে ছিলেন?
উঃ “অভিষেক” শীর্ষক কাব্যাংশে অম্বুরাশি সুতা অর্থাৎ লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন তাকে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ দিতে এবং লঙ্কায় ফিরে যাওয়ার জন্য।

৮) “কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধী”- লঙ্কা এবং জলধি কেঁপে উঠল কেন?
উঃ রাবণপুত্র বীর ইন্দ্রজিৎ ধনুকের ছিলা টেনে যে টংকারধ্বনি তুলেছিলেন, সেই টংকারধ্বনির প্রচন্ড ভৈরব শব্দে, লঙ্কাপুরী এবং জলধি কেঁপে উঠল।

৯) “তব শরে মরিয়া বাঁচিল”- কে, কার শরে মরেও বেঁচে উঠেছিল?
উঃ “অভিষেক” শীর্ষক কাব্যাংশে, ইন্দ্রজিতের শরে রামচন্দ্র মারা গিয়েছিলেন কিন্তু মায়ার বলে, রামচন্দ্র আবার পুনর্জীবিত হয়েছিলেন।

১০)“আগে পুজ ইষ্টদেবে”- বক্তা ইষ্টদেবকে আগে পুজ করার কথা বলেছেন কেন?
উঃ “অভিষেক” শীর্ষক কাব্যাংশে, বক্তা রাক্ষসরাজ রাবণ তার বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎকে, রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে, তাদের ইষ্টদেবকে পুজো দিতে বলেছেন, কারণ রামচন্দ্র অত্যন্ত মায়াবী পুরুষ। তার সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করা অত্যন্ত কঠিন।

অভিষেক কবিতার উৎস কি?

অভিষেক কবিতা ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১) “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় ….”- মহাবাহুর পরিচয় দাও |   কোন ঘটনার ফলে মহাবাহু বিস্মিত হয়েছিলেন ?
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত “মেঘনাদবধ” কাব্যের অন্তর্গত “অভিষেক” শীর্ষক কাব্যাংশে “মহাবাহু” বলতে রাক্ষসাধিপতি রাবণপুত্র মেঘনাদকে বলা হয়েছে।

বিস্ময়ের কারণ ; ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীদেবী প্রমোদকাননে উপস্থিত হন। এবং মেঘনাদকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ দেন। প্রিয় ভ্রাতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে, মেঘনাথ বিস্ময়ে অবাক হন। কারণ ইতিপূর্বেই, তাদের চরম শত্রু রামচন্দ্রকে তিনি রাত্রিকালীন যুদ্ধে নিজে বদ করেছিলেন। তাই রামচন্দ্র পুনর্জীবিত হয়ে হত্যা করেছে, এই ব্যাপারটা শুনে, মেঘনাদের বিস্ময়ের সীমা থাকে না।

২) “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ ……..”- “রথীন্দ্রর্ষভ পরিচয় দাও| রথীন্দ্রর্ষভ সেজে ওঠার ঘটনাটি বিবরণ দাও|
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত “অভিষেক” নামক পাঠ্য অংশে “রথীন্দ্রর্ষভ” বলতে রক্ষসরাজ রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎকে বলা হয়েছে।

রথীন্দ্রর্ষভ সেজে ওঠার ঘটনাটি;  মেঘনাথের রণসাজকে কবি মাইকেল দুটি পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন | যেমন- মহাদেব এবং পার্বতীর পুত্র কার্তিক তারকা সুরকে বধ করার জন্য যেমন যুদ্ধ সাজ ছিল, সেই রূপ ইন্দ্রজিৎ রণসাজে সেজে উঠলেন অথবা বৃহন্নারূপী অর্জুন অজ্ঞাতবাস কালে বিরাট রাজার পুত্রসহ গোধন উদ্ধার করার সময় শমীবৃক্ষমূলে যে যুদ্ধসাজ ছিল, রাবন পুত্র মেঘনাদ সেই রকম রনসাজে সেজে উঠলেন।তিনি মেঘবর্ণ রথে চড়লেন। রথের চাকায় বিদ্যুতের চমক নিয়ে, রামধনু রঙ্গা পতাকা সেজে অশ্বগতিতে তার রথকে দ্রুত বেগে ধাবিত করলেন।

৩) “এ মায়া, …. বুঝিতে না পারি”- বক্তা কোন বিষয়কে “মায়া” বলেছেন? তিনি সেই “মায়া” বুঝতে পারেননি কেন?  
উঃ “অভিষেক” শীর্ষক কাব্যাংশে রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রের মরে গিয়েও, পুনর্জীবিত হয়ে ওঠার মায়া তিনি বুঝতে পারেননি।

“মায়া” বুঝতে পারেননি কেন; ইন্দ্রজিৎ উক্ত কথাটি তার পিতা রাক্ষস রাজ রাবণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। তিনি বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন। কারণ তিনি পূর্বেই রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামচন্দ্রকে হত্যা করেছিলেন অথচ কোন মায়ার মন্ত্র বলে রামচন্দ্র পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন। এবং বিরবাহুকে হত্যা করেছেন। তাই রামচন্দ্রের এই ছলনা তথা মায়া ইন্দ্রজিতের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে।

৪) “কিন্তু অনুমতি দেহ”- বক্তা কার কাছে অনুমতি চাইছেন? অনুমতি পেলে বক্তা কি করবেন?
উঃ “অভিষেক” নামক কাব্যাংশে, রাবনের বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎ তার পিতা রাক্ষসরাজ রাবণের কাছে, রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন।

** রামচন্দ্রের হাতে ইন্দ্রজিতের ভ্রাতা বীরবাহুর হত্যা হয়েছে, তাই ইন্দ্রজিৎ তার পিতার কাছে রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন। রাবণ তাকে যুদ্ধে অনুমতি দিলে, ইন্দ্রজিৎ রামকে সমূলে নির্মূল করবেন। তাকে ঘোরতর শরানলে ভস্ম করে দেবেন। অথবা রামচন্দ্রকে তিনি বায়ু অস্ত্রে উড়িয়ে দেবেন নতুবা রামচন্দ্রকে বেঁধে এনে রাজার পায়ে ফেলবেন।

অভিষেক কবিতা রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

1.“জিজ্ঞাসিলা ……… মানিয়া”- পাঠ্য কবিতা মহাবাহুল কি পরিচয় পাওয়া যায় ? এই প্রসঙ্গে মহাবাহুল যুদ্ধ-সজ্জার পরিচয় দাও | অথবা মহাবাহু কিভাবে সেজে উঠেছিলেন তার পরিচয় দাও |
উঃ) মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিরোচিত “মেঘনাদবধ কাব্যের” অন্তর্গত “অভিষেক” শীর্ষক পাঠ্যাংশে,“মহাবাহু” হলেন লংকাধিপতি রাক্ষসরাজ রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ তথা মেঘনাদ।

প্রভাষার ছদ্মবেশী ইন্দিরা দেবীর কাছ থেকে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুর খবর শুনে, মেঘনাদ অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন এবং দ্রুত লঙ্কায় ফিরে যাওয়ার জন্য, রণসাজে সেজে উঠলেন- “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর-আভরণে”

মহাবাহুর যুদ্ধ সাজ:-মেঘনাথের রণসাজকে কবি মাইকেল দুটি পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন যেমন- মহাদেব এবং পার্বতীর পুত্র কার্তিক তারকা সুরকে বধ করার জন্য যেমন যুদ্ধ সাজ ছিল, সেই রূপ ইন্দ্রজিৎ রণসাজে সেজে উঠলেন অথবা বৃহন্নারূপী অর্জুন অজ্ঞাতবাস কালে বিরাট রাজার পুত্রসহ গোধন উদ্ধার করার সময় শমীবৃক্ষমূলে যে যুদ্ধসাজ ছিল, রাবন পুত্র মেঘনাদ বীর বিক্রমে সেই রকম রনসাজে সেজে উঠলেন।তিনি মেঘবর্ণ রথে চড়লেন। রথের চাকায় বিদ্যুতের চমক নিয়ে, রামধনু রঙ্গা পতাকা সেজে অশ্বগতিতে তার রথকে দ্রুত বেগে ধাবিত করলেন।ভয়ংকর শব্দ করে বায়ুপথে তার রথ উড়ল। বীর মেঘনাথ ধনুকের ছিলায় টংকার ধ্বনি তুললেন। তাতে লঙ্কাপুরী ও সমুদ্র কেঁপে উঠল।

2.“দেহ আজ্ঞা মোরে”-বক্তা কার কাছে কোন আজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?অথবা –“এই কি সাজে……দশাননাত্মজ”-দশাননাত্মজ শব্দটির অর্থ কি ? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিক ফুটে উঠেছে তা আলোচনা কর।অথবা- “অভিষেক” শীর্ষক পাঠ্যাংশে মেঘনাদের চরিত্র বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর। অথবা- “কিন্তু অনুমতি ……পামরে আজি”-কে, কার কাছে কিসের অনুমতি চাইছেন? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে তা লেখ?

উঃ) মাইকেল মধুসূদন দত্তের “অভিষেক” শীর্ষক পাঠ্য অংশের, উক্তিটির বক্তা হলেন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ। তিনি পিতা রাক্ষস রাক্ষসাধিপতি রাবণের কাছে, রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রার জন্য আজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন। দশাননাত্মজ কথাটির অর্থ হলো, দশানন রাবন রাজ লঙ্কার পুত্র

রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতের এমন সাহসী মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আমাদের নজরে পড়েছে, সেগুলি নিম্নলিখিত
পিতৃ অনুরাগ- ইন্দ্রজিৎ তথা মেঘনাদ তিনি পিতৃভক্ত, তাই পিতা যুদ্ধে যাওয়ার পরিক্রম করলে, তিনি তার পিতার কাছ থেকে নিজেই যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন।

একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক- ইন্দ্রজিৎ একজন প্রকৃতই দেশপ্রেমিক। তিনি তার দেশ ও জাতির গৌরব ফিরিয়ে আনতে সদা প্রস্তুত। তাই দেশকে রক্ষার জন্য তিনি সর্বাগ্রে পিতার কাছে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন।   তাই তিনি বীর বিক্রমে বলেছেন, “দেখিব এবার ….. কি ঔষধে!”

কর্তব্যবোধ- ইন্দ্রজিৎ তার কর্তব্যের প্রতি অত্যন্ত ওয়াকিবহাল। তাই তিনি প্রমোদ উদ্যান থেকে রনসাজে সজ্জিত হয়ে দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে পিতার কাছে চলে এসেছেন। তাছাড়া  তিনি পিতাকে সবিনয়ে নিবেদন করেছেন যে, পুত্র থাকতে যদি পিতা যুদ্ধে যান, তবে জগতে কলঙ্ক ঘোষিত হবে।

নিজের উপর অগাধ ভরসা- ইন্দ্রজিৎ নিজের আত্মশক্তিতে বলিয়ান, তিনি পিতাকে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে দুবার রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছেন, সুতরাং তার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি এবারও রামচন্দ্রকে সমূলে নির্মূল করবেন।

শেষ কথা-তার দৃঢ় অথচ সংযতভাবে সেনাপতির পদের দায়িত্ব তিনি নিতে চান। তার এই দায়িত্ব প্রার্থনার মধ্যে দিয়েই, তার চরিত্রের আত্মশক্তিতে আস্থা এবং তার পিতার প্রতি ভালোবাসা, স্বজাতির প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যবোধের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

৪. “নমি পুত্র পিতার …… কহিলা”- পিতা এবং পুত্রের নাম কি এই প্রসঙ্গে পিতা এবং পুত্রের মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছে সেটি নিজের ভাষায় লেখো 
উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত “অভিষেক” নামক পাঠ্যাংশে, পিতা হলেন রাক্ষসাধিপতি দশানন রাবণ এবং পুত্র হলেন রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ।

পিতা পুত্রের কথোপকথন; পুত্র ইন্দ্রজিৎ লংকায় প্রবেশ করে, পিতার চরণে প্রণাম করেন এবং করজোড়ে তিনি বলেন যে, তিনি শুনেছেন রামচন্দ্র নাকি মরার পরেও পুনরায় বেছে উঠেছে। এই মায়া তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। পিতা যেন তাকে অনুমতি দেন, তাহলে তিনি শত্রুকে সমূলে নির্মূল করে আসবেন। রাক্ষসাধিপতি রাবণ, পুত্রকে আলিঙ্গন করে শির চুম্বন করে  উত্তর করলেন, ইন্দ্রজিৎ হচ্ছেন রাক্ষসদের শ্রেষ্ঠ। তিনি তাদের একমাত্র ভরসা। তাই এই কাল সমরে তাকে বারবার যুদ্ধে পাঠাতে তিনি চান না। বিধাতা তার প্রতি বিরূপ, তা নাহলে শিলা জলে ভাসে, মরা মানুষ আবার বেঁচে ওঠে? ইন্দ্রজিৎ বলেন, কি দেখে সামান্য মানুষকে তিনি ভয় পাচ্ছেন? পুত্র থাকতে পিতা যদি যুদ্ধে যান, তবে জগতে পুত্রের নামে কলঙ্ক ছড়াবে।

রাক্ষসাধিপতি বলেন, তার ভাই কুম্ভকর্ণকে তিনি অকালে জাগিয়েছিলেন, আর তার দেহ এখন সমুদ্রের তীরে পড়ে আছে। তবে ইন্দ্রজিতের যদি একান্তই যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা হয়, তাহলে তিনি যেন আগে ইস্ট দেবতার পূজো করেন এবং নিকুম্ভিলা যজ্ঞ  সম্পন্ন করেন। শেষে রাবণ বলেন, সূর্য এখন অস্তাচলগামী। তাই ইন্দ্রজিৎ যেন, সকালে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে যান।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Read More

Recent