অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা

সূচীপত্র

Mcq প্রশ্নোত্তর ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

১) “এ অদ্ভুত বারতা, জননী কোথায় পাইলে তুমি”- অদ্ভুত বার্তাটি হল

ক) কুম্ভকর্ণের মৃত্যু সংবাদ খ)বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ গ) রাবণের যুদ্ধে যাওয়ার সংবাদ ঘ) রামচন্দ্রের মারা যাওয়ার সংবাদ 

উঃ খ) বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ  (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা )

২) “কি কহিলা ভগবতী,”- ভগবতী হলেন-

ক) লক্ষ্মী খ) প্রমিলা গ) মন্দোদরী ঘ) সরস্বতী 

উঃ ক)লক্ষ্মী

৩) “ত্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া কল্যাণী”- এখানে “কল্যাণী” বলতে বোঝানো হয়েছে-

ক) ধাত্রী মাতাকে খ) লক্ষ্মী দেবীকে গ) প্রমিলাকে ঘ) সরস্বতীকে 

উঃ গ) প্রমিলাকে

৪) “বিদায় এবে দেহ বিধিমুখী”- এখানে কাকে বিধিমুখী বলা হয়েছে?

) প্রভাষাকে খ) লক্ষ্মীকে গ) সরস্বতীকে ঘ) প্রমিলাকে

উঃ ঘ) প্রমিলাকে

৫) “অভিষেক” কবিতাটি “মেঘনাদবধ” কাব্যের কোন স্বর্গ থেকে গৃহীত?

ক) প্রথম সর্গ খ) ষষ্ঠ স্বর্গ গ) অষ্টম স্বর্গ ঘ) নবম স্বর্গ 

উঃ ক)প্রথম সর্গ 

 

আরও পড় —

মাধ্যমিক বাংলা সাজেশান-2023

 

৬) “বৈরীদল বেড়ে সস্বর্ণালংকা”- বৈরীদল শব্দের অর্থ-

ক) মিত্রপক্ষ খ)শত্রুদল গ) সৈন্যদল ঘ) নারীদল 

উঃ খ) শত্রুদল  ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা) 

৭) “কহিলা কাঁদিয়া ধনি”- ধনি শব্দটির অর্থ-

ক) সুন্দরী রমণী খ) পতি সোহাগিনী গ) বিত্তবান মহিলা ঘ) ঐশ্বর্যশালী মহিলা 

উঃ ক)সুন্দরী রমণী

৮) “নাদিলা কর্বুরদল”- কর্বুরদল শব্দটির অর্থ-

ক) শত্রু দল খ)সৈন্যদল গ)মিত্রপক্ষ ঘ)রাক্ষসদল

উঃ ঘ) রাক্ষসদল

৯) “রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী”- ইন্দিরা সুন্দরী হলেন-

ক) লক্ষ্মী দেবী খ) প্রভাষা গ) মন্দোদরী ঘ) প্রমিলা 

উঃ ক)লক্ষ্মী দেবী

১০) “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি”-, লংকা এবং জলধি কেঁপে ওঠার কারণ-

ক) সৈন্যদলের হুংকার খ) ইন্দ্রজিতের টংকারধ্বনি গ) রাক্ষস দলের হুংকার ঘ) রথের আওয়াজ 

উঃ খ) ইন্দ্রজিতের টংকারধ্বনি ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর(অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

১) “এ মায়া, পিতঃ বুঝিতে না পারি”- বক্তা কোন মায়া, কেন বুঝতে পারেন না?

উঃ ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রকে রাত্রিকালীন যুদ্ধে পরাজিত করেছেন, অথচ রামচন্দ্র, পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন। রামচন্দ্রের এই মরে গিয়েও, জীবিত হয়ে ওঠার মায়া ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারেন না।

২) “এ অদ্ভুত বারতা, জননী কোথায় পাইলে তুমি”- অদ্ভুত বারতাটি কি?

উঃ মেঘনাদ নিশারনে, রামচন্দ্রকে সংহার করেছেন অথচ তার ভ্রাতা বীরবাহ রামচন্দ্রের হাতে মৃত হয়েছেন।  ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশী লক্ষ্মী দেবীর মুখে এই বার্তাকেই ইন্দ্রজিৎ অদ্ভুত বার্তা বলেছেন।

৩) “রুষিবেন দেব অগ্নি”- অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন কেন?

উঃ পুত্র মেঘনাদ থাকতে, পিতা রাবণ যদি যুদ্ধে যান, তবে জগতে কলঙ্ক ঘুষিবে এবং তাদের ইষ্ট দেবতা অগ্নিদেব রুষ্ট হবেন।

৪) “এ কলঙ্ক, পিতঃ, ঘুষিবে জগতে” কোন কলঙ্ক জগতে ঘুসিবে?

উঃ বীরপুত্র মেঘনাদ থাকতে যদি তার পিতা রাক্ষসরাজ রাবণ রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান, তাহলে এটা কলঙ্ক হবে এবং এই কলঙ্ক জগতে ঘুষিবে। (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

৫) “হা দিক মোরে”- বক্তা নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন কেন?

উঃ শত্রুপক্ষ স্বর্ণ লঙ্কাকে ঘিরে ফেলেছে। আর লঙ্কার এই বিপদের দিনে ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ কাননে বামাদল মাঝে অর্থাৎ নারীদের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন তাই বীরচেতা ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন।

৬) “ছদ্মবেশী অম্বুরাশি সুতা”- অম্বুরাশি সূতা কে? তাকে অম্বুরাশি সুতা বলা হয় কেন?

উঃ অম্বুরাশি শব্দের অর্থ সমুদ্র এবং সুতা শব্দের অর্থ কন্যা। সমুদ্র মন্থনের সময় লক্ষ্মী দেবীর উত্থান হয়েছিল বলে, লক্ষ্মী দেবীর আরেক নাম অম্বুরাশি সুতা।

৭) “ছদ্মবেশী অম্বুরাশি সুতা”- কেন ইন্দ্রজিতের কাছে এসে ছিলেন?

উঃ অভিষেক শীর্ষক কাব্যাংশে অম্বুরাশি সুতা অর্থাৎ লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন তাকে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ দিতে এবং লঙ্কায় ফিরে যাওয়ার জন্য।

৮) “কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধী”- লঙ্কা এবং জলধি কেঁপে উঠল কেন?

উঃ রাবণপুত্র বীর ইন্দ্রজিৎ ধনুকের ছিলা টেনে যে টংকারধ্বনি তুলেছিলেন, সেই টংকারধ্বনির প্রচন্ড ভৈরব শব্দে, লঙ্কাপুরী এবং জলধি কেঁপে উঠল।

৯) “তব শরে মরিয়া বাঁচিল”- কে, কার শরে মরেও বেঁচে উঠেছিল?

উঃ অভিষেক শীর্ষক কাব্যাংশে, ইন্দ্রজিতের শরে রামচন্দ্র মারা গিয়েছিলেন কিন্তু মায়ার বলে, রামচন্দ্র আবার পুনর্জীবিত হয়েছিলেন। (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

১০)“আগে পুজ ইষ্টদেবে”- বক্তা ইষ্টদেবকে আগে পুজ করার কথা বলেছেন কেন?

উঃ অভিষেক শীর্ষক কাব্যাংশে, বক্তা রাক্ষসরাজ রাবণ তার বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎকে, রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে, তাদের ইষ্টদেবকে পুজো দিতে বলেছেন, কারণ রামচন্দ্র অত্যন্ত মায়াবী পুরুষতার সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করা অত্যন্ত কঠিন।

ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

১) “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া”- কাকে মহাবাহু বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কি?

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত মেঘনাদবধ কাব্যের অন্তর্গত অভিষেক শীর্ষক কাব্যাংশে মহাবাহু বলতে রাক্ষসাধিপতি রাবণপুত্র মেঘনাদকে বলা হয়েছে।

ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীদেবী প্রমোদকাননে উপস্থিত হন। এবং মেঘনাদকে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ দেন। প্রিয় ভ্রাতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে, মেঘনাথ বিস্ময়ে অবাক হন। কারণ ইতিপূর্বেই, তাদের চরম শত্রু রামচন্দ্রকে তিনি রাত্রিকালীন যুদ্ধে নিজে বদ করেছিলেন। তাই রামচন্দ্র পুনর্জীবিত হয়ে হত্যা করেছে, এই ব্যাপারটা শুনে, মেঘনাদের বিষয়ের সীমা থাকে না।

২) “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর-আভরণে”- “রথীন্দ্রর্ষভ” কাকে বলা হয়েছে? তিনি কিভাবে সেজে উঠলেন?

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত অভিষেক নামক পাঠ্য অংশে রথীন্দ্রর্ষভ বলতে রক্ষসরাজ রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎকে বলা হয়েছে। ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা) 

প্রভাষার ছদ্মবেশী ইন্দিরা দেবীর কাছ থেকে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুর খবর শুনে, মেঘনাদ অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন এবং দ্রুত লঙ্কায় ফিরে যাওয়ার জন্য, রণসাজে সেজে উঠলেন-

      “সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর-আভরণে”

মেঘনাথের রণসাজকে কবি মাইকেল দুটি পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন যেমন- মহাদেব এবং পার্বতীর পুত্র কার্তিক তারকা সুরকে বধ করার জন্য যেমন যুদ্ধ সাজ ছিল, সেই রূপ ইন্দ্রজিৎ রণসাজে সেজে উঠলেন অথবা বৃহন্নারূপী অর্জুন অজ্ঞাতবাস কালে বিরাট রাজার পুত্রসহ গোধন উদ্ধার করার সময় শমীবৃক্ষমূলে যে যুদ্ধসাজ ছিল, রাবন পুত্র মেঘনাদ বীর বিক্রমে সেই রকম রনসাজে সেজে উঠলেন।তিনি মেঘবর্ণ রথে চড়লেন। রথের চাকায় বিদ্যুতের চমক নিয়ে, রামধনু রঙ্গা পতাকা সেজে অশ্বগতিতে তার রথকে দ্রুত বেগে ধাবিত করলেন।

৩) “এ মায়া, পিত: বুঝিতে না পারি”- বক্তা কোন বিষয়কে “মায়া” বলেছেন? তিনি সেই “মায়া” বুঝতে পারেননি কেন? অথবা- উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

উঃ অভিষেক শীর্ষক কাব্যাংশে রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ রামচন্দ্রের মরে গিয়েও, পুনর্জীবিত হয়ে ওঠার মায়া তিনি বুঝতে পারেননি।

ইন্দ্রজিৎ উক্ত কথাটি তার পিতা রাক্ষস রাজ রাবণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। তিনি বীরবাহুর মৃত্যু সংবাদ শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন। কারণ তিনি পূর্বেই রাত্রিকালীন যুদ্ধে রামচন্দ্রকে হত্যা করেছিলেন অথচ কোন মায়ার মন্ত্র বলে রামচন্দ্র পুনরায় জীবিত হয়ে উঠেছেন। এবং বিরবাহুকে হত্যা করেছেন। তাই রামচন্দ্রের এই ছলনা তথা মায়া ইন্দ্রজিতের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে।

৪) “কিন্তু অনুমতি দেহ”- বক্তা কার কাছে অনুমতি চাইছেন? অনুমতি পেলে বক্তা কি করবেন?

উঃ অভিষেক নামক কাব্যাংশে, রাবনের বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎ তার পিতা রাক্ষসরাজ রাবণের কাছে, রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন।

রামচন্দ্রের হাতে ইন্দ্রজিতের ভ্রাতা বীরবাহুর হত্যা হয়েছে, তাই ইন্দ্রজিৎ তার পিতার কাছে রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন। রাবণ তাকে যুদ্ধে অনুমতি দিলে, ইন্দ্রজিৎ রামকে সমূলে নির্মূল করবেন। তাকে ঘোরতর শরানলে ভস্ম করে দেবেনঅথবা রামচন্দ্রকে তিনি বায়ু অস্ত্রে উড়িয়ে দেবেন নতুবা রামচন্দ্রকে বেঁধে এনে রাজার পায়ে ফেলবেন। (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা) 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

1.“জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া”- মহাবাহু কে? তার যুদ্ধ সজ্জার বর্ণনা দাও।

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিরোচিত “মেঘনাদবধ কাব্যের” অন্তর্গত “অভিষেক” শীর্ষক পাঠ্যাংশে,“মহাবাহু” হলেন লংকাধিপতি রাক্ষসরাজ রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ তথা মেঘনাদ। 

প্রভাষার ছদ্মবেশী ইন্দিরা দেবীর কাছ থেকে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুর খবর শুনে, মেঘনাদ অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন এবং দ্রুত লঙ্কায় ফিরে যাওয়ার জন্য, রণসাজে সেজে উঠলেন-

     সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ বীর-আভরণে”

মেঘনাথের রণসাজকে কবি মাইকেল দুটি পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন যেমন- মহাদেব এবং পার্বতীর পুত্র কার্তিক তারকা সুরকে বধ করার জন্য যেমন যুদ্ধ সাজ ছিল, সেই রূপ ইন্দ্রজিৎ রণসাজে সেজে উঠলেন অথবা বৃহন্নারূপী অর্জুন অজ্ঞাতবাস কালে বিরাট রাজার পুত্রসহ গোধন উদ্ধার করার সময় শমীবৃক্ষমূলে যে যুদ্ধসাজ ছিল, রাবন পুত্র মেঘনাদ বীর বিক্রমে সেই রকম রনসাজে সেজে উঠলেন।তিনি মেঘবর্ণ রথে চড়লেন। রথের চাকায় বিদ্যুতের চমক নিয়ে, রামধনু রঙ্গা পতাকা সেজে অশ্বগতিতে তার রথকে দ্রুত বেগে ধাবিত করলেন।ভয়ংকর শব্দ করে বায়ুপথে তার রথ উড়ল। বীর মেঘনাথ ধনুকের ছিলায় টংকার ধ্বনি তুললেন। তাতে লঙ্কাপুরী ও সমুদ্র কেঁপে উঠল। এইভাবে বীর ইন্দ্রজিৎ রনসাজে সজ্জিত হয়ে লঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

2. “দেহ আজ্ঞা মোরে”- বক্তা কার কাছে কোন আজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

অথবা –“এই কি সাজে আমারে দশাননাত্মজ”- দশাননাত্মজ কাকে বলা হয়েছে? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিক ফুটে উঠেছে তা আলোচনা কর।

অথবা– “অভিষেক” শীর্ষক পাঠ্যাংশে মেঘনাদের চরিত্র বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর।

অথবা– “কিন্তু অনুমতি দেহ; সমূলে নির্মূল করিবো পামরে আজি”- কে, কার কাছে কিসের অনুমতি চাইছেন? এই প্রসঙ্গে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে তা লেখ? ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিরোচিত মেঘনাদবধ কাব্যের অন্তর্গত অভিষেক শীর্ষক পাঠ্য অংশের, উক্তিটির বক্তা হলেন রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ। তিনি তার পিতা রাক্ষস রাক্ষসাধিপতি রাবণের কাছে, রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রার জন্য আজ্ঞা প্রার্থনা করেছেন। 

রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিতের এইরকম উক্তির মধ্যে দিয়ে, তার চরিত্রের বিশেষ কয়েকটি দিক আমরা দেখতে পাই।

প্রথমত- ইন্দ্রজিৎ তথা মেঘনাদ তিনি পিতৃভক্ত, তাই পিতা যুদ্ধে যাওয়ার পরিক্রম করলে, তিনি তার পিতার কাছ থেকে নিজেই যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন। এখানে তার পিতৃ অনুরাগের পরিচয় আমরা পাই। দ্বিতীয়ত- ইন্দ্রজিৎ একজন প্রকৃতই দেশপ্রেমিক। তিনি তার দেশ ও জাতির গৌরব ফিরিয়ে আনতে সদা প্রস্তুত। তাই দেশকে রক্ষার জন্য তিনি সর্বাগ্রে পিতার কাছে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইছেন। তার মত বীর পুত্র থাকতে, তিনি পিতাকে যুদ্ধে যেতে দিতে চান না। তাই তিনি বীর বিক্রমে বলেছেন, দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে!

তৃতীযত- ইন্দ্রজিৎ তার কর্তব্যের প্রতি অত্যন্ত ওয়াকিবহাল। তাই তিনি প্রমোদ উদ্যান থেকে রনসাজে সজ্জিত হয়ে দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে পিতার কাছে চলে এসেছেন। তাছাড়া তিনি পিতাকে সবিনয়ে নিবেদন করেছেন যে, পুত্র থাকতে যদি পিতা যুদ্ধে যান, তবে জগতে কলঙ্ক ঘোষিত হবে। তাই নয়, ইষ্টদেব অগ্নি রুষ্ট হবেন এবং মেঘবাহন ইন্দ্র উপহাস করবেন। চতুর্থ- ইন্দ্রজিৎ নিজের আত্মশক্তিতে বলিয়ান, তিনি পিতাকে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে দুবার রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছেন, সুতরাং তার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি এবারও রামচন্দ্রকে সমূলে নির্মূল করবেন।

সর্বোপরি বলা যায়, তার দৃঢ় অথচ সংযতভাবে সেনাপতির পদের দায়িত্ব তিনি নিতে চান। তার এই দায়িত্ব প্রার্থনার মধ্যে দিয়েই, তার চরিত্রের আত্মশক্তিতে আস্থা এবং তার পিতার প্রতি ভালোবাসা, স্বজাতির প্রতি দায়িত্ব কর্তব্যবোধের পরিচয় ফুটে উঠেছে। (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

৩. “কি হেতু, মাত: গতি তব আজি এ ভবনে?”- মাত: কাকে বলা হয়েছে? তিনি কেন এই ভবনে এসেছেন? এই প্রসঙ্গে উভয়ের মধ্যে কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখ।  অথবা-পাঠ্যাংশ অবলম্বনে, ইন্দ্রজিৎ এবং ধাত্রী মাতার  কথোপকথন নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লেখ।

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত অভিষেক শীর্ষক পাঠ্য কাব্যাংশের, উক্তিটির বক্তা হলেন, রাবণ পুত্র মেঘনাদ। তিনি এই প্রশ্নটি করেছেন, তার ধাত্রী মাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে আগত লক্ষ্মী দেবীকে।

মাত: বলতে মেঘনাদ তার ধাত্রী মাতা প্রভাষাকে বলেছেন। এই প্রভাষা হলেন ছদ্মবেশী লক্ষ্মী দেবী, কবিতাকে অম্বুরাশি সুতা বলেছেন।

রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ তার ধাত্রীমাতাকে দেখে প্রণাম করলেন এবং তিনি জানতে চাইলেন, এই ভবনে তার আগমনের কারণ কি? ধাত্রী মাতার ছদ্মবেশে থাকা লক্ষ্মীদেবী পরম স্নেহে, ইন্দ্রজিতের শির চুম্বন করে জানালেন, তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহু, ঘোরতর যুদ্ধে মৃত হয়েছেন। আর তার শোকেই মহাশোকী হয়েছেন রাক্ষসাধিপতি রাবন। তাই তিনি নিজেই সসৈন্যে যুদ্ধে যাচ্ছেন। ধাত্রী মাতার মুখে, এমন খবর শুনে, মহাবাহু ইন্দ্রজিৎ বিশ্ময়ে অবাক হলেন এবং তিনি বলেন, রাত্রিকালীন যুদ্ধে তিনি নিজে রামচন্দ্রকে হত্যা করেছেন, তাহলে তার প্রিয় ভ্রাতা বীরবাহুকে কে হত্যা করতে পারেন।

প্রত্যুত্তরে ধাত্রী মাতা জানালেন, সীতাপতি রামচন্দ্র অত্যন্ত মায়াবী পুরুষতিনি মায়ার বলে আবার পুনরুজ্জীবন লাভ করেছেন। তাই ইন্দ্রজিৎ যেন অতিসত্বর লঙ্কায় গিয়ে রাক্ষস স্কুলের মানমর্যাদা রক্ষা করেন। এরপরই মেঘনাদ লংকায় যাওয়ার জন্য রনসাজে সজ্জিত হলেন। (অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

৪. “নমি পুত্র পিতার চরণে, করজোড়ে কহিলা”- পিতা এবং পুত্রের পরিচয় দাও। এই প্রসঙ্গে পিতা পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখ।

উঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত অভিষেক নামক পাঠ্যাংশে, পিতা হলেন রাক্ষসাধিপতি দশানন রাবণ এবং পুত্র হলেন রাবণের বীর পুত্র ইন্দ্রজিৎ।

পাঠ্য অংশে পিতা রাবণ এবং পুত্র ইন্দ্রজিতের মধ্যে কথোপকথন হয়েছে। পুত্র ইন্দ্রজিৎ লংকায় প্রবেশ করে, পিতার চরণে প্রণাম করেন এবং করজোড়ে তিনি বলেন যে, তিনি শুনেছেন রামচন্দ্র নাকি মরার পরেও পুনরায় বেছে উঠেছে। এই মায়া তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। পিতা যেন তাকে অনুমতি দেন, তাহলে তিনি শত্রুকে সমূলে নির্মূল করে আসবেন। অথবা তীরের আগুনে তাকে ভস্ম করবেন, নয়তো  বায়ু অস্ত্রে তাকে উড়িয়ে দেবেন অথবা তাকে বেঁধে এনে রাজার পায়ে ফেলবেন। রাক্ষসাধিপতি রাবণ, পুত্রকে আলিঙ্গন করে শির চুম্বন করে মৃদুস্বরে উত্তর করলেন, য ইন্দ্রজিৎ হচ্ছেন রাক্ষসদের শ্রেষ্ঠ। তিনি তাদের একমাত্র ভরসা।

তাই এই কাল সমরে তাকে বারবার যুদ্ধে পাঠাতে তিনি চান না। বিধাতা তার প্রতি বিরূপ, তা নাহলে কে কবে শুনেছে, যে শিলা জলে ভাসে, মরা মানুষ আবার বেঁচে ওঠে? এই কথা শুনে ইন্দ্রজিৎ বলেন, কি দেখে সামান্য মানুষকে তিনি ভয় পাচ্ছেন? পুত্র থাকতে পিতা যদি যুদ্ধে যান, তবে জগতে পুত্রের নামে কলঙ্ক ছড়াবে। ইন্দ্র হাসবেন। এমনকি ইস্টদেব অগ্নি রুষ্ট হবেন। তিনি নিজে দুবার যুদ্ধে রামচন্দ্রকে পরাজিত করেছেন। আর একবার তাকে আদেশ দিলে, তিনি দেখবেন কোন ঔষধে রামচন্দ্র আবার বেঁচে ওঠে।

রাক্ষসাধিপতি রাবন বলেন, তার ভাই কুম্ভকর্ণকে তিনি অকালে জাগিয়েছিলেন, আর তার দেহ এখন সমুদ্রের তীরে পড়ে আছে। তবে ইন্দ্রজিতের যদি একান্তই যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা হয়, তাহলে তিনি যেন আগে ইস্ট দেবতার পূজো করেন এবং নিকুম্ভিলা যজ্ঞ  সম্পন্ন করেন। তারপর সব শেষে রাবণ বলেন, সূর্য এখন অস্তাচলগামী। তাই ইন্দ্রজিৎ যেন, সকালে রামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধে যান। একথা বলে রাক্ষসরাজ বিধিমত গঙ্গাজল ছিটিয়ে ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।

5.“কহ দাসে, লঙ্কার কুশল”-    বক্তা কেবক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে এবং  কোন পরিস্থিতিতে কথা বলেছেন ? বক্তা লঙ্কার কোন সংবাদ পেয়েছিলেনএর মধ্যে দিয়ে বক্তার  চরিত্রের কোন দিক  প্রকাশ পায়  ?

উত্তর]   মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিরোচিত মেঘনাদবধ কাব্যের অন্তর্গত,  প্রথম সর্গ থেকে সংকলিত অভিষেক  নামে  পাঠ্য কাব্যাংশে উল্লেখিত উক্তিটির বক্তা হলেন, রাবণ পুত্র মেঘনাথ |

রাবণের বীর পুত্র মহাবাহু মেঘনাথ ,  তার ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশী রূপে আগত, লক্ষীদেবীকে উদ্দেশ্য করে আলোচিত মন্তব্যটি করেছেন ।

মহাবাহু  মেঘনাথ তথা ইন্দ্রজিৎ, তার ধাত্রীমাতা প্রভাষার   ছদ্মবেশী রূপে লক্ষ্মী দেবীকে, অসময়ে প্রমোদ কাননে উপস্থিত হতে দেখে, তিনি তাকে প্রথমে তার চরণে প্রণাম জানান এবং জানতে চান কি কারনে তিনি এই প্রমোদ কারণে এসে উপস্থিত হয়েছেন অর্থাৎ তিনি লঙ্কার কুশল বা খবর খবর জানতে চান । প্রভাষার ছদ্মবেশী রূপী  লক্ষ্মীর কাছে-  এই পরিস্থিতিতে মেঘনাথ প্রভাষাকে উদ্দেশ্য করে আলোচিত  মন্তব্যটি করেছেন

মেঘনা তার ধাত্রীমাতা কে প্রণাম করে জানতে চাইলেন লঙ্কার কুশল সম্পর্কে । ছদ্দবেশী লক্ষীদেবী পরম স্নেহে  চুম্বন করে জানালেন ঘোরতর  যুদ্ধে, তাঁর প্রিয়  ভ্রাতা বীরবাহু মৃত হয়েছেন ।  তার শোকে মহাশক্তি রাক্ষসাধিপতি রাবণ স্বয়ং নিজে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন ।  ধাত্রী মাতার ছদ্দবেশী, লক্ষ্মী দেবীর কাছ থেকেই তিনি লঙ্কার  এই কুশল সংবাদ পেয়েছিলেন ।

মেঘনাদের চরিত্র বিশ্লেষন ( অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা)

মেঘনাদের এই উক্তিটির মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের বেশ কতগুলি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছে । আমাদের আলোচিত  পাঠ্য কাব্যাংশের মূল আকর্ষণ তথা কেন্দ্রীয় চরিত্র এই মেঘনাথ । তার চরিত্রের গুণ বহুবিধ । রাবণ পুত্র আত্মশক্তিতে অবিচল 

মেঘনাথ রামচন্দ্রের মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনি প্রমোদ  কাননে তার স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন । এমন সময় লক্ষীদেবী তার ধাত্রীমাতা প্রভাষার  ছদ্মবেশে প্রমোদ কাননে উপস্থিত হন । তিনি ধাত্রীমাতা প্রভাষাকে দেখে বিচলিত হয়েছেন । তিনি বুঝতে পারেন নিশ্চয়ই ধাত্রীমাতা লঙ্কার কুশল সংবাদ নিয়ে এসেছেন । তাই তিনি উদগ্রীব হয়ে লঙ্কার কুশল সংবাদ তার কাছে জানতে চেয়েছেন । আমরা বুঝতে পারি যে, মেঘনাদ তার স্ত্রীর কাছে থাকলেও তার স্বদেশ তথা দেশের প্রতি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন । তাই তিনি লঙ্কার খবরা- খবর সবার আগে জানতে চেয়েছেন অর্থাৎ তিনি তাঁর দেশের প্রতি অত্যন্ত সচেতন একজন ব্যক্তি ।

প্রভাষা  তার সামনে উপস্থিত হলে , মেঘনাথ তাকে ভক্তিভরে প্রণয়ন করেন । কারণ তিনি জানেন এই প্রভাষার কাছেই তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন । তাই তিনি তাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে , তাকে প্রণাম করেছেন ভক্তিভরে ।  অর্থাৎ তিনি যে তার গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তা  তার পালিত মাতাকে প্রণাম করার মধ্যে দিয়ে আমরা জানতে পারি ।

মেঘনাথ সাহসী এবং আত্মপ্রত্যয়ী একজন পুরুষ । ধাত্রী মাতা প্রভাষার মুখে তার ভ্রাতা বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি অত্যন্ত অবাক হয়েছেন । কারণ তাদের চরম শত্রু রামকে তিনি আগেই হত্যা করেছেন । তাহলে তার ভ্রাতা  বীরবাহুকে কে হত্যা করেছে্‌ ,  তিনি দ্রুত তা জানতে  চান ।   দ্রুত লঙ্কায় যাওয়া জন্য প্রস্তুত হন ।

ইন্দ্রজিৎ অত্যন্ত বলশালী পুরুষ । প্রমোদ উদ্যানে ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশধারী লক্ষ্মী দেবীর মুখে তার ভাতা বীরবাহুর মৃত্যুতে শুনে তিনি বিষয়ে হতবাক হন এবং তৎক্ষনাত যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সংকল্প গ্রহণ করেন অর্থাৎ তিনি তার কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ।  

 

you may like it—

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A6%E0%A6%A8_%E0%A6%A6%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4

 

অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা  অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা অভিষেক প্রশ্নোত্তর 2023 মাধ্যমিক বাংলা

Ratan Das

Learn More