শিকার কবিতায় আকাশের রং কেমন ছিল?

শিকার কবিতার কবি পরিচিতি:- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাধর কবি হলেন জীবনানন্দ দাশ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে চিত্ররূপময়তার কবি বলেছেন |  কবির জন্ম হয় পূর্ববাংলায় বরিশাল শহরে 1899 খ্রিস্টাব্দে 17 ই ফেব্রুয়ারি |  পিতার নাম সত্যানন্দতার | মা  ছিলেন সেসময়ের বিখ্যাত লেখিকা কুসুমকুমারী দেবী | তার শিক্ষা শুরু হয় ব্রজমোহন স্কুলের | বাংলা, ইংরেজি উভয় ভাষাতেই কবিতা রচনার সূচনা স্কুল থেকেই | 1915 খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন |  পরে ব্রজমোহন কলেজ থেকেই প্রথম বিভাগে আই.এ পাশ করেন | 

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “বনলতা সেন” | তার কাব্যগ্রন্থ গুলির মধ্যে আছে –  “ঝরাপালক”, “ ধূসর পান্ডুলিপি”,  “মহাপৃথিবী”,  “সাতটি তারার তিমির”, “ রূপসী বাংলা”, “সুদর্শন” | এছাড়া তিনি “মাল্যদান”, “ জলপাইহাটি”, “ সুতীর্থ” নামে তিনটি উপন্যাস লিখেছিলেন কিন্তু তার জীবদ্দশায় তা প্রকাশিত হয়নি | বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি 1954 খ্রিস্টাব্দের 22শে অক্টোবরে মৃত্যু হয় |উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ে আরো প্রশ্ন এবং তার উত্তর দেখতে- click here

শিকার কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর

1)“নদীর জল ……পাপড়ির মতো লাল। ”

  1. মচকা ফুলের
  2. গোলাপ ফুলের
  3. জবা ফুলের
  4. মোরগ ফুলের।
    উঃ) ক) মচকা ফুলের

২) “নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল ”—এখানে “সে” বলতে কার কথা বলা হয়েছে ?

  1. চিতাবাঘিনীর কথা
  2. সুন্দরী বাদামি হরিণীর কথা
  3. রোগা শালিকের কথা
  4. দেশোয়ালিদের কথা।
    উঃ) খ) সুন্দরী বাদামি হরিণীর কথা

৩) “সূর্যের আলোয় তার রং কুমকুমের মতো নেই আর ”—এখানে কার কথা বলা হয়েছে ?

  1. শুকনো অশ্বখ পাতা
  2. কচি বাতাবি লেব
  3. রোগা শালিকের হৃদয়
  4. দেশোয়ালিদের জ্বালানো আগুন
    উঃ) ঘ)দেশোয়ালিদের জ্বালানো আগুন

) “একটা অদ্ভুত শব্দটি”-কীসের শব্দ ?

  1. গাড়ির হর্নের শব্দ
  2. মানুষের শব্দ
  3. পাতার মর্মর শব্দ
  4. বন্দুক গুলির শব্দ।
    উঃ) ঘ) বন্দুক গুলির শব্দ।

৫)“একটি তারা এখন আকাশে রয়েছে”–তারা-র সঙ্গে কবি তুলনা করেছেন-

  1. একটি ফুলের
  2. একটি মেয়ের
  3. একটি নদীর
  4. একটি হরিণের
    উঃ) খ) একটি মেয়ের

৬) “নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল”–কে “নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নামল”?

  1. চিতাবাঘিনী
  2. সুন্দরী বাদামি হরিণ
  3. রোগা শালিক
  4. মোরগ ফুল
    উঃ) খ) সুন্দরী বাদামি হরিণ

৭) “সূর্যের আলোয় তার রং কুকুমের মতো নেই আর”–তার রং কীসের মতো হয়ে গেছে?

  1. হরিণীর মতো
  2. কচি বাতাবি লেবুর মতো
  3. রোগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ইচ্ছার মতো
  4. টিয়া পাখির মতো সবুজ
    উঃ) গ) রোগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ইচ্ছার মতো

৮ ) “সারারাত মাঠে আগুন জ্বেলেছে”—কারা আগুন জ্বেলেছে ?

  1. টেরিকাটা মানুষেরা
  2. আদিবাসিরা
  3. দেশোয়ালিরা
  4. গ্রামের মানুষেরা
    উঃ) গ) দেশোয়ালিরা

৯) “হিমের রাতে শরীর ‘উম্’রাখবার জন্য দেশোয়ালিরা/ সারারাত মাঠে”—

  1. জেগে আছে
  2. নাচ করেছে
  3. শিকার করছে
  4. আগুন জ্বেলেছে
    উঃ) ঘ) আগুন জ্বেলেছে

১০) আকাশের রং ঘাসফরিঙের দেহের মতো —

  1. কোমল সবুজ
  2. কোমল নীলাভ
  3. নীল সবুজ
  4. কোমল নীল।
    উঃ) ঘ) কোমল নীল।

১১) “চারিদিকে পেয়ারা ও নোনার গাছ ” —

  1. কচি বাতাবি লেবুর মতো সবুজ
  2. মচকা ফুলের পাপড়ির মতো লাল
  3. ময়ূরের পালকের মতো
  4. টিয়ার পালকের মতো সবুজ
    উঃ) ঘ) টিয়ার পালকের মতো সবুজ

১২) “দুমড়ে এখনও আগুন জ্বলছে তাদের ”–কিভাবে আগুন জ্বলছে ?

  1. শুকনা পাতা দিয়ে
  2. শুকনো অশ্বত্থ পাতা দিয়ে
  3. শুকনো ঘাস দিয়ে
  4. শুকনো বট পাতা দিয়ে
    উঃ খ) শুকনো অশ্বত্থ পাতা দিয়ে

১৩) “ এই ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল। ”–কে অপেক্ষা করছিল ?

  1. টেরিকাটা মানুষরা
  2. দেশওয়ালিরা।
  3. গোধূলিমদির মেয়েটি
  4. বাদামি হরিণ।
    উঃ) ঘ) বাদামি হরিণ।

শিকার কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর

1.কারা কেন সারারাত মাঠে আগুন জ্বেলেছিল?
ans:দেশোয়ালীরা অর্থাৎ দেশের আদিম অধিবাসীরা শীতের রাতে নিজেদের শরীরকে গরম করার জন্য সারারাত মাঠে আগুন জ্বেলেছিল।

2.টিয়ার পালকের মতো সবুজ কি?
ans:টিয়া পাখির পালকের মতো সবুজ হল চারিদিকের পেয়ারা ও নোনার গাছ|

3.শিকার কবিতায় আকাশের রং কেমন ছিল?
ans:শিকার কবিতায় আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মত নীল

4.টেরিকাটা শব্দের অর্থ কি?
ans:টেরিকাটা শব্দের অর্থ হলো মাথার সিঁথি

5.শিকার কবিতায় হরিণটি তার ক্লান্তি কাটানোর জন্য কি করেছিলেন?
ans:শিকার কবিতায় হরিণটি তার ক্লান্তি কাটানোর জন্যদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নিজের ক্লান্ত বিহ্বল শরীরটাকে একটু আবেগ দেওয়ার জন্য, নদীর জলে নামল

শিকার কবিতার রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

1. এই ভোরের…….. করছিল”- কে কোন ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল? তার পরিণতি কী হয়েছিল তা কবিতা অনুসরণে লেখ ?
ans- শিকার নামক কবিতায় বাদামী বর্ণের হরিণটি একটি সুন্দর ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল।কিন্তু কবিতায় হরিণের শেষ পরিণতি অত্যন্ত করুন এবং ভয়ংকর ভাবে দেখানো হয়েছে | টেরিকাটা কয়েকজন মানুষ অর্থাৎ আধুনিক সভ্যতার শিক্ষিত মানুষ জন নিরপরাধ হরিণকে শিকার করে তার মাংস ভক্ষণ করতে মত্ত |

 হরিণের পরিণতি: “শিকার” কবিতায় একটি নিরপরাধ হরিণের ভয়ংকর পরিণতি আমরা লক্ষ্য করি| হরিণ চিতাবাঘের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নক্ষত্রহীন রাত্রিতে, সুন্দরবন থেকে অর্জুনের বনে ঘুরে ঘুরে বেরিয়েছিল । সেই হরিণটি এমন একটি ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল । এবার ভোরের আলোয় নেমে এসেছে । কচি কচি বাতাবি লেবুর মত সবুজ ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে । নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নিজের ক্লান্ত বিহ্বল শরীরটাকে একটু আবেগ দেওয়ার জন্য, নদীর জলে নামল । সেই সময় একটি অদ্ভুত আওয়াজ । আর এই আওয়াজ এর সঙ্গে সঙ্গে হরিণের মৃত্যু ঘোষণা করল অর্থাৎ হরিণটিকে কয়েকজন মানুষের দল শিকার করলো|

2.” একটা অদ্ভুত শব্দ”- অদ্ভুত শব্দটি কিসের ছিল ?এই অদ্ভুত শব্দের মধ্যে দিয়ে কবি কোন ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটিয়েছেন, তা কবিতা অনুসরণের লেখ
ans:শিকার নামক কবিতায় যে অদ্ভুত শব্দের কথা বলা হয়েছে সেটি শিকারি মানুষের আধুনিক অস্ত্র বন্ধুকের গুলির আওয়াজ |এই বন্দুকের সাহায্যেই একটি নিরাপরা হরিণকে স্বীকার করা হয়েছে।

অদ্ভুত ঘটনার পরিচয় :কয়েকজন আধুনিক সভ্যতার শিক্ষিত মানুষ একটি নিরপরাধী হরিণকে বন্দুকের দ্বারা স্বীকার করেছে। আসলে কবি এমন এক অদ্ভুত ঘটনার মধ্যে দিয়ে আধুনিক সভ্যতার নগ্ন রূপের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছেন |একটি নিরপরাধ হরিণ যে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এক বন থেকে অন্য বনে ছুটে বেরিয়েছিল | সে একটি সুন্দর ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভোরের আলোয় নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনে নেমে আসে মৃত্যুর যবনিকা পাত। নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নিজের ক্লান্ত বিহ্বল শরীরটাকে একটু আবেগ দেওয়ার জন্য, নদীর জলে নামল । সেই সময় একটি অদ্ভুত আওয়াজ । আর এই আওয়াজ এর সঙ্গে সঙ্গে হরিণের মৃত্যু ঘোষণা করল|

3.শিকার কবিতায় ভোরের যে প্রাকৃতিক চিত্রের পরিচয় দিয়েছেন তা কবিতা অনুসরণে আলোচনা কর।
ans:“শিকার” কবিতায় দুটি ভোরের বর্ণনা আছে । এই দুটি ঘরের মধ্যে প্রথম ভোরে অপরূপ গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন । সেইসঙ্গে আদিম সভ্যতার একটা দিক তিনি তুলে ধরেছেন । অন্যদিকে দ্বিতীয় ভোরে আছে- আধুনিক সভ্যতার নগ্ন রূপ । যেখানে টেরিকাটা কয়েকজন মানুষ অর্থাৎ আধুনিক সভ্যতার শিক্ষিত মানুষ জনের একটি নিরপরাধ হরিণকে শিকার করে তার মাংস ভক্ষণ করতে মত্ত ।

ভোরের বর্ণনা: আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মত নীল।চারিদিকে পেয়ারা ও নোনার গাছ টিয়া পাখির পালকের মতো সবুজ দেখাচ্ছে । আকাশে একটি তারা রয়েছে । সেই তারা টি কবির কাছে মনে হয়েছে, যেন পাড়াগাঁর বাসরঘরে বসে থাকা একটি একাকী মেয়ের মত অথবা হাজার হাজার বছর আগের মিশরের কোন মহিলার বুকে থেকে যে মুক্তার মালা রেখেছিল সেটি যেন কবির নীল মদের গেলাসে রাখলে যেমন দেখায় , ঠিক তেমনি এখনও একটি তারা আকাশে জ্বলছে। অন্যদিকে দেশোয়ালিরা অর্থাৎ আদিম অদিবাসীরা তাদের নিজেদের শরীর উষ্ণ রাখার জন্য সারারাত মাঠে আগুন জ্বেলেছে । সেই আগুন মোরগ ফুলের মতো লাল । তারা এই আগুন জ্বলেছিল অশ্বখ পাতা দুমড়ে-মুচড়ে, তাদের এই আগুন এখনো জ্বলছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Read More

Recent