মহুয়ার দেশ কোথায় ?

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী,
দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা সমর সেন রচিত মহুয়ার দেশ কবিতাটির সমস্ত প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে | ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে খুব সহজে এই কবিতা থেকে প্রশ্নের উত্তর করতে পারে তার জন্য খুব সংক্ষিপ্ত আকারে রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর করা হয়েছে | আশা করছি প্রশ্নের উত্তর এবং তার লেখার ধরনটি ছাত্র-ছাত্রীদের খুবই পছন্দের হবে |এই কবিতা থেকে উত্তর লেখার কিছু গোপন টিপস তোমাদের দেওয়া হয়েছে।উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ে এ বছর কোন কোন প্রশ্নগুলি কোন কোন বিভাগ থেকে আসতে চলেছে জানতে :- click here

বহু বিকল্পধর্মী প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১) “গলিত সোনার মতো উজ্জ্বল আলোর স্তম্ভ”- কে এঁকে দেয়?

  1. ডুবন্ত সূর্য
  2. অলস সূর্য
  3. উদীয়মান সূর্য
  4. দুপুরের সূর্য
    উঃ Bঅলস সূর্য

২) সবুজ সকাল কিসে ভেজা-

  1. শিশিরে
  2. জলে
  3. মেঘে
  4. ভোরের আলোয়
    উঃ A.শিশিরে

৩) “অবসন্ন মানুষের শরীরে দেখি”-

  1. ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন
  2. দীর্ঘ রহস্য
  3. ধুলোর কলঙ্ক
  4. বঙ্কিম নিশ্বাস
    উঃ Cধুলোর কলঙ্ক

৪) “সমস্তক্ষণ সেখানে পথের দু’ধারে”-

  1. মহুয়ার দেশ
  2. উজ্জ্বল স্তব্ধতা
  3. দেবদারু দীর্ঘ রহস্য
  4. ছায়া ফেলে
    উঃ Dছায়া ফেলে

৫) “মহুয়া বনের ধারে”-

  1. মহুয়ার গন্ধ
  2. শিশিরে ভেজা
  3. দুঃস্বপ্ন হানা দেয়
  4. কয়লার খনি, গভীর বিশাল শব্দ
    উঃ) Dকয়লার খনি, গভীর বিশাল শব্দ

৬) “ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়”-

  1. ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন
  2. দীর্ঘ রহস্য
  3. গভীর শব্দ
  4. ধুলোর কলঙ্ক
    উঃ A.ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন

৭) “আর আগুন লাগে জলের অন্ধকারে—“

  1. আলোর স্তম্ভ
  2. জল স্রোতে
  3. ধূসর ফেনায়
  4. উজ্জ্বল স্তব্ধতায়
    উঃ Cধূসর ফেনায়

৮) মহুয়া বনের ধারে আছে-

  1. কয়লা খনি
  2. সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস
  3. নিবিড় অন্ধকার
  4. ঘ) ধুলোর কলঙ্ক
    উঃ Aকয়লা খনি

৯) কবি মহুয়া বনের ধারে মাঝে মাঝে কি শোনেন?

  1. কয়লা খনির আওয়াজ
  2. কারখানার আওয়াজ
  3. শ্রমিকের আওয়াজ
  4. বঙ্কিম বিশ্বাস
    উঃ A.কয়লা খনির আওয়াজ

১০) কবির কামনার মহুয়ার দেশ আছে-

  1. খুব কাছে
  2. অনেক অনেক দূরে,
  3. দেবদারু দীর্ঘ রহস্যে
  4. পথের ধারে
    উঃ B.অনেক অনেক দূরে

মহুয়ার দেশ কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর saq

১) “ধোঁয়ার বঙ্কিম নিঃশ্বাস” বলতে কবি কি বুঝিয়েছেন ?
উঃ কবি সমর সেন “ধোঁয়ার বঙ্কিম নিঃশ্বাস” বলতে, নাগরিক সভ্যতার অবসন্ন, ক্লান্তিকর একঘেঁয়েমি জীবনকে বুঝিয়েছেন। যা কবির কাছে শীতের দুঃস্বপ্নের মতো ঘুরে ফিরে আসে। এর থেকে মুক্তি পেতেই কবি মহুয়ার দেশে যেতে চান।

২) “মাঝে মাঝে শুনি”- মাঝে মাঝে কি শোনেন ? অথবা “গভীর, বিশাল শব্দ- কিসের শব্দের কথা বলা হয়েছে ?
উঃ কবি সমর সেন তার কামনার মহুয়ার বনের ধারেই, কয়লা খনির অবস্থান দেখেছেন। সেখানেই তিনি মাঝে মাঝে শোনেন, সেই কয়লা খনির বিশাল, গভীর শব্দ শুনেন।

৩) “অবসন্ন মানুষের শরীরে দেখি-“ মানুষের শরীর অবসন্ন কেন ?
উঃ মহুয়া বনের ধারে কয়লা খনির অবস্থান। সেখানে মানুষ সারারাত পরিশ্রম করছে। তাদের চোখ ঘুমহীন তাছাড়া নাগরিক সভ্যতার ক্লান্তিকর পরিস্থিতি, তাদের শরীরকে করে তুলেছে অবসন্ন।তাই কবি সমর সেন বলেছেন, মানুষের অবসন্ন শরীর।

৪) কবির কামনার মেঘ মদির মহুয়ার দেশটি কেমন ?  অথবা: মহুয়ার দেশ কোথায় ? 
উঃ কবির কামনার মেঘ মদির মহুয়ার দেশ এক শান্ত স্নিগ্ধ স্বর্গময় দেশ, যেখানে সমস্তক্ষণ পথের দু’ ধার ছায়া ফেলে এবং দেবদারু দীর্ঘ রহস্য আর দূর সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস বিচরণ করে।

৫) “ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়”- কাদের চোখে কি হানা দেয় ?
উঃ “মহুয়ার দেশ” শীর্ষক কবিতায় মহুয়া বনের ধারে অবস্থিত কয়লা খনির মানুষদের, অবসন্ন শরীরে ঘুমহীন চোখে ক্লান্তির এক দুঃস্বপ্ন হানা দেয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- মহুয়ার দেশ কবিতা থেকে সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্নের সংখ্যা খুবই কম | যদি বিষয়বস্তু খুব ভালো করে এবং প্রতিটি লাইনের অর্থ বুঝে নিতে পারো তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে অতি সংক্ষিপ্ত প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার প্রয়োজন পড়বে না | আর প্রায় প্রতিটি লাইনে একই রকম উত্তর তোমরা লক্ষ্য করে থাকবে, প্রয়োজন শুধু ভাষাগত একটু পরিবর্তন |

মহুয়ার দেশ কোথায় ?

মহুয়ার দেশ কবিতার রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১) “অবসন্ন মানুষের শরীরে দেখি ধুলোর কলঙ্ক”- এখানে কোন মানুষদের কথা বলা হয়েছে ? তারা অবসন্ন কেন ? “ধুলোর কলঙ্ক” বলতে কবি কি বুঝিয়েছেন ?

অথবা “ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়, কিসের ক্লান্ত দুঃখ”- কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের ঘুমহীন চোখে ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন হানা দেয় কেন ?

উঃ) কবি সমর সেনের রচিত “মহুয়ার দেশ” শীর্ষক কবিতায় মহুয়ার বনের ধারে অবস্থিত কয়লা খনির শ্রমিক তথা মানুষদের কথা এখানে বলতে চেয়েছেন। যারা সারারাত কয়লা খনিতে কাজ করে চলেছে।

তারা অবসন্ন কেন;- মহুয়ার দেশেই, নাগরিক সভ্যতার আগ্রাসনে, প্রকৃতিতে লালিত মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। তাদের পরম স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন বর্তমানে সেই কয়লা খনির শ্রমিকে পরিণত হয়েছে। তারা সারারাত না ঘুমিয়ে কয়লা খনিতে পরিশ্রম করছে। তাই তাদের চোখ ঘুমহীন এবং ঘুমহীন থাকার কারণে শরীর ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে পড়েছে।

“ধুলোর কলঙ্ক” বলতে; কবি সমর সেন নাগরিক সভ্যতার দূষণ তথা অবসন্ন, অবসাদগ্রস্ত, একঘেঁয়েমি ক্লান্তিকর জীবনকেই বুঝিয়েছেন। মহুয়া বনের ধারে অবস্থিত কয়লা খনিতে শ্রমিকেরা তথা মানুষেরা সারা রাত কাজ করার ফলে, তাদের শরীর ধূলিমলিন হয়ে গেছে অর্থাৎ তারা যে প্রাকৃতিক পরিবেশে লালিত পালিত হয়েছিল, তাদের সেই জীবন এখন বিনষ্ট হয়ে গেছে। তাদের জীবন এখন কয়লা খনির আওয়াজে পরিব্যপ্ত হয়েছে। এই অবস্থাকেই কবি “ধুলোর কলঙ্ক” বলেছেন।

২) “আমার ক্লান্তির উপরে ঝড়ুক মহুয়া ফুল”- কবি কেন মহুয়া ফুলের কামনা করেছেন ? কবির কামনা কি বাস্তবে পূর্ণ হয়েছিল ?
অথবা- “নামুক মহুয়ার গন্ধ”- “মহুয়ার গন্ধ” বলতে কবি কি বুঝিয়েছেন ? তিনি কেন এমন কামনা করেছেন ?
অথবা “মহুয়ার দেশ” কবিতাটির সারবস্তু সংক্ষেপে লেখ।

উঃ) কবি সমর সেন তার “মহুয়ার দেশ” শীর্ষক কবিতায় নাগরিক জীবনের যন্ত্রণাক্লিষ্ট একঘেঁয়েমি, অবসন্ন জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। এই অবসাদগ্রস্ত, যন্ত্রণাময় জীবন থেকে কবি মুক্তি পেতে কামনা মদির এমন এক দেশকে খুঁজেছেন, যেখানে স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে পরম শান্তি পেতে পারেন। সেই কামনা নদীর দেশ হলো মহুয়ার দেশ।

মহুয়া ফুলের কামনা; কবি সমর সেন তার ক্লান্তিকর, অবসন্ন, একঘেঁয়েমি নাগরিক সভ্যতার জীবন থেকে সেই স্বপ্নময়তার মহুয়ার দেশে যেতে চান অর্থাৎ প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতার ছোঁয়া পেতে চান। কবির নাগরিক জীবন থেকে পালিয়ে আসার এক এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে | তিনি দেখতে পান, সন্ধ্যার জলস্রোতে সূর্য যেন সমুদ্রে উজ্জ্বল আলোর স্তম্ভ এঁকে দিয়েছে। কিন্তু এইসব কিছুর পরেও কবি তার অবসন্নকে দূর করতে পারছেন না। কারণ- “ধোঁয়ার বঙ্কিম বিশ্বাস ঘুরে ফিরে ঘরে আছে / শীতের দুঃস্বপ্নের মত” এইজন্য হয়তো কবির কামনা মদির মহুয়ার দেশ অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। তাই কবি তার দৈনন্দিন নাগরিক সভ্যতার বাস্তবতা, ক্লান্তিকর পরিবেশ থেকে পালিয়ে মহুয়ার দেশে যেতে চেয়েছেন। তিনি কামনা করেছেন, যেন তার সমস্ত ক্লান্তি, অবসাদ- এর উপর মহুয়ার ফুল ঝরে পড়ে।

শেষ কথা; কিন্তু কবির এই কামনা বাস্তবে পূর্ণ হয় না। কারণ তিনি দেখতে পান, সেই মহুয়া বনের ধারেই, বিশাল গভীর কয়লা খনির শব্দ এবং সেখানে মানুষেরা সারারাত ঘুম হীন চোখে, ক্লান্ত শরীরে কাজ করে চলেছে। তাদের শরীর অবসন্ন, অবসাদে পরিপূর্ণ। তাই কবি বলেছেন- “ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়, কিসের ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন”

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- মহুয়ার দেশ কবিতা থেকে অনেকগুলি রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর আলাদা আলাদা ভাবে করার কোন প্রয়োজন নেই। তার কারণ প্রায় প্রতিটি লাইনে একই কথা বলতে চাওয়া হয়েছে | তাই তোমরা যদি বিষয় বস্তুটাকে ভালোভাবে বুঝে নিতে পারো, তাহলে অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর করার কোন প্রয়োজন পড়বে না | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বিষয় প্রবন্ধ রচনা সাজেশন দেখতে :- click here

  • আসলে তোমাদের পরীক্ষায় কবিতার লাইন তুলে প্রশ্ন করে, প্রথমে একটি ছোট প্রশ্ন তারপরে বড় প্রশ্নটি থাকে |এই ছোট প্রশ্নটির উত্তর তোমরা খুব সহজে করতে পারবে | আর বড় প্রশ্নটির উত্তর বিষয়বস্তুর দিকে লক্ষ্য রেখে উত্তর লিখে যেতে হয়।

এই কবিতা থেকে উত্তর লেখার গোপন কৌশল:  

  1. কবিতাটি একটি ছোট্ট কবিতা কিন্তু বিষয়বস্তু গভীরতা অনেকটা তাই বিষয়বস্তু খুব ভালো করে বুঝে নাও। 
  2. প্রায় প্রতিটি লাইনে একই রকম কথা বলা আছে তাই অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর করার কোন প্রয়োজন নেই। 
  3. কবিতাটির বিষয়বস্তু খুব ভালো করে বুঝে উঠতে পারলে কোন প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করার প্রয়োজন পড়বে না। 
  4. এই কবিতা থেকে অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর করার কোন প্রয়োজন নেই। 
  5. এই কবিতা থেকে যেকোনো একটি রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর খুব ভালো করে কর এবং যে প্রশ্নটিই হোক না কেন তুমি তোমার করা প্রশ্নের উত্তর থেকে উত্তর তৈরি করতে পারবে। 

Read More

Recent