সিন্ধুতীরে- সৈয়দ আলাওল প্রশ্নোত্তর

মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা সৈয়দ আলাউল রচিত সিন্ধুতীরে|  এই সিরিজে সিন্ধু তীরেকবিতা থেকে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনুরোধ। তোমরা উত্তরগুলি দেখার পাশাপাশি উত্তর লেখার কৌশলটি খুব ভালো করে লক্ষ্য কর|উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ে অন্যান্য বিষয়ের আরো প্রশ্ন-উত্তর জানতে click here

রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর-সিন্ধুতীরে

১) “বাহুরক কন্যার জীবন”-  “বাহুরক”-কথার অর্থ কি? এখানে কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? কন্যার জীবন কিভাবে ফিরে পেয়েছিল তা কবিতা অনুসরণে লেখ।/ অথবা-“পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন”- পঞ্চকন্যা বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা কিভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিলেন তা কবিতা অনুসরণে লেখ। 
উঃ “বাহুরক” শব্দের অর্থ- ফিরে আসুক। সমুদ্র কন্যা পদ্মা চিতোরের রাজা রত্ন সেনের স্ত্রী পদ্মাবতী এবং তার সখীদের জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের রচিত “পদ্মাবতী” নামক কাব্য অংশের অন্তর্গত “সিন্ধুতীরে” শীর্ষক পাঠ্য কবিতায়, “কন্যা” বলতে চিতোরের রাজা রত্ন সেনের স্ত্রী পদ্মাবতীর কথা বলা হয়েছে।

সমুদ্র কন্যা পদ্মা তার সখীদের সঙ্গে নিয়ে প্রমোদ উদ্যানে সিন্ধুতীরে একটি মাঞ্জস বা ভেলা দেখতে পান। কৌতুহলবসত সেখানে গিয়ে দেখেন, চার সখী পরিবৃতা এক অপরূপ সুন্দরী নারী অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন। সমুদ্র কন্যা পদ্মা অনুমান করেন যে, হয়তো দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে, স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে ভূমিতে নিপতিতা হয়েছে অথবা সমুদ্রের প্রবল বাতাস নৌকা ভেঙে দেওয়ায় তাদের এই পরিণতি। কন্যার কেশ-বেশ সব আলু-থালু এবং অসংবৃত্ত ছিল। সমুদ্র কন্যা নিরীক্ষণ করে বুঝতে পারেন যে, তাদের দেহে কিঞ্চিৎ শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। তৎক্ষণাৎ তিনি তার সখীদের পঞ্চকন্যাকে উদ্যানের মাঝে নিয়ে যেতে আদেশ দেন।।পদ্মা পঞ্চকন্যার এমন পরিস্থিতি দেখে তিনি তার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন- বিধি মোড়ে …..নৈরাশ 

সমুদ্র কন্যার আদেশ পেয়ে তার সখীরা অচেতন কন্যাদের উদ্যানে মাঝে নিয়ে আসেন।সমুদ্র কন্যা পদ্মার কথামতো তাদের শরীর বস্ত্র দ্বারা আবৃত করা হয়। আগুন জ্বেলে কেউ গায়ে, কেউ পায়ে এবং মাথায় আগুনের উত্তাপ দিতে থাকে। এই ভাবেই সমুদ্র কন্যা ও তার সখীদের তন্ত্র-মন্ত্র মহৌষধি দ্বারা চারদন্ড প্রাণপণ চিকিৎসার ফলে অবশেষে- “পঞ্চকন্যা ….. চেতন”

২) “সিন্ধুতীরে” কবিতা অনুসরণে দিব্য পুরীর বিবরণ দাও। পদ্মাবতীসহ তার চার সখীরা কিভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিলেন?                                                                                                 উঃ দিব্য কথার অর্থ- স্বর্গীয় স্থান এবং পুরী কথার অর্থ- নগর বা আলোয়। “সিন্ধুতীরে” নামক পাঠ্য অংশে, “দিব্য পুরী” বা “দিব্যস্থান” বলতে সমুদ্রস্থ পুরী বা নগরীর কথা বলা হয়েছে। এই নগরী আসলে সমুদ্ররাজের সাম্রাজ্য।

এই দিব্যপুরী প্রকৃত অর্থেই মনোহর অর্থাৎ সুন্দর। সেখানে দুঃখ যন্ত্রণার কোন স্থান নেই। ধর্ম আচরণ এবং সত্য আচরণ বাসিন্দাদের চরিত্রের সাধারণ ধর্ম। সমুদ্র রাজের কন্যা পদ্মা এই দিব্য পুরীর বাইরেই সমুদ্র তীরে সুন্দর রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। এই দিব্য স্থানে নানা পুষ্পে সুগন্ধি এবং নানা ফলের গাছে পরিপূর্ণ। তাতে নানা রকমের মণিমুক্তায় সজ্জিত প্রাসাদে সমুদ্র কন্যা পদ্মা থাকেন। তাই কবি এই দিব্যস্থান সম্পর্কে বলেছেন-“অতি মনোহর দেশ” আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের নির্বাচিত “সিন্ধুতীরে” কাব্যাংশে,পদ্মাবতীসহ তার সখীরা সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। সমুদ্রকন্যা পদ্মা এবং তার সখীরা মিলে, তাদের উদ্যানের মাঝে নিয়ে আসেন।

পদ্মা এবং তার সখীরা সেখানে তাদের বস্ত্র দ্বারা আবৃত করেন এবং আগুন জ্বালিয়ে কেউ কেউ গায়ে-মাথায়, পায়ে সেক দিতে থাকেন। সবাই মিলে চার দন্ড ধরে তন্ত্র, মন্ত্র এবং মহৌষধি দ্বারা প্রাণপণ চিকিৎসা করে, এই পঞ্চকন্যার অর্থাৎ পদ্মাবতী এবং তার সখীদের চেতনা ফিরিয়ে আনেন।

ব্যাখ্যামূলক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

৩.১.১ “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন”- পঞ্চকন্যা কিভাবে চেতন ফিরে পেলেন?
অথবা- “পঞ্চ জনে বসনে ঢাকিয়া”- পঞ্চজন কারা? তাদেরকে কেন বসনে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল?
অথবা- “চিকিৎসিমু প্রাণপণ”-  কে, কার কিভাবে চিকিৎসা করেছিলেন? 
উঃ আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের নির্বাচিত “সিন্ধুতীরে” কাব্যাংশে,পদ্মাবতীসহ তার সখীরা সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন। সমুদ্রকন্যা পদ্মা এবং তার সখীরা মিলে, তাদের উদ্যানের মাঝে নিয়ে আসেন।

পদ্মা এবং তার সখীরা সেখানে তাদের বস্ত্র দ্বারা আবৃত করেন এবং আগুন জ্বালিয়ে কেউ কেউ গায়ে-মাথায়, পায়ে সেক দিতে থাকেন। সবাই মিলে চার দন্ড ধরে তন্ত্র, মন্ত্র এবং মহৌষধি দ্বারা প্রাণপণ চিকিৎসা করে, এই পঞ্চকন্যার অর্থাৎ পদ্মাবতী এবং তার সখীদের চেতনা ফিরিয়ে আনেন।

৩।২.১) “অতি মনোহর দেশ”- এখানে কোন দেশের কথা বলা হয়েছে? সেই মনোভাব দেশের পরিচয় দাও।/অথবা- “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ”- কন্যার নাম কি? তিনি কোথায় থাকেন? সেই দেশের পরিচয় দাও।
উঃ দিব্য কথার অর্থ- স্বর্গীয় স্থান এবং পুরী কথার অর্থ- নগর বা আলোয়। “সিন্ধুতীরে” নামক পাঠ্য অংশে, “দিব্য পুরী” বা “দিব্যস্থান” বলতে সমুদ্রস্থ পুরী বা নগরীর কথা বলা হয়েছে। এই নগরী আসলে সমুদ্ররাজের সাম্রাজ্য।

এই দিব্যপুরী প্রকৃত অর্থেই মনোহর অর্থাৎ সুন্দর। সেখানে দুঃখ যন্ত্রণার কোন স্থান নেই। ধর্ম আচরণ এবং সত্য আচরণ বাসিন্দাদের চরিত্রের সাধারণ ধর্ম। সমুদ্র রাজের কন্যা পদ্মা এই দিব্য পুরীর বাইরেই সমুদ্র তীরে সুন্দর রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। এই দিব্য স্থানে নানা পুষ্পে সুগন্ধি এবং নানা ফলের গাছে পরিপূর্ণ। তাতে নানা রকমের মণিমুক্তায় সজ্জিত প্রাসাদে সমুদ্র কন্যা পদ্মা থাকেন। তাই কবি এই দিব্যস্থান সম্পর্কে বলেছেন-    “অতি মনোহর দেশ”

৩।২.৩) “অনুমান …… চিতে”- কে, কি দেখে অনুমান করেছিলেন? তিনি কোন বিষয় অনুমান করেছিলেন?
অথবা- কে নিজ চিতে কি অনুমান করেছিলেন?
উঃ আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের “পদ্মাবতী” শীর্ষক কাব্যাংশের অন্তর্গত “সিন্ধুতীরে” নামক পাঠ্য অংশে সমুদ্র কন্যা পদ্মা অচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকা অপূর্ব সুন্দরী পদ্মাবতীকে দেখে নিজ চিতে অনুমান করেছিলেন।

সমুদ্রকন্যা পদ্মা, চার সখিসহ অচৈতন্য অবস্থায় শুয়ে থাকা কন্যার রূপ দেখে বিস্মিত হন। তিনি নিজ মনে অনুমান করেছিলেন যে,- হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে কোন অপ্সরা অচৈতন্য অবস্থায় ভূমিতে নিপতিতা হয়েছে অথবা প্রবল বাতাসে সমুদ্র মাঞ্জস বা নৌকো ভেঙে যাওয়ায় তার এই পরিণতি হয়েছে। পদ্মা এই বিষয় অনুমান করেছিলেন নিজ চিতে।

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

১) “বাহুরক কন্যার জীবন” – কার জীবন ফিরে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে? অথবা- “বাহুরক” কথার অর্থ কি?
উঃ “বাহুরক” শব্দের অর্থ হল ফিরে আসুক। “সিন্ধুতীরে” শীর্ষক অংশে চিতোরের রাজা রত্ন সেনের স্ত্রী পদ্মাবতীর জীবন ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

২) “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ”- কন্যা কোথায় থাকেন?
উঃ সমুদ্র মাঝারে যে দিব্য পুরী আছে, সেই দিব্য পুরী স্থানে, উদ্যান নির্মাণ করে সমুদ্র কন্যা পদ্মা সর্বক্ষণ থাকেন।

৩) “অনুমান করে নিজ চিতে”- নিজ চিতে কে, কি অনুমান করে?
উঃ সমুদ্র কন্যা পদ্মা, অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা অপরূপ সুন্দরী পদ্মাবতীকে দেখে অনুমান করেন যে, হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গ ভ্রষ্ট হয়ে কোন অপ্সরা অচৈতন্য অবস্থায় ভূমিতে নিপতিতা হয়েছে অথবা প্রবল ঝড়ে সমুদ্রে নৌকো ভেঙে যাওয়ায় তাদের এই পরিণতি হয়েছে।

৪) “শ্রীযুত মাগন গুনী”- মাগন গুনী কে? অথবা- মাগন গুনীর পরিচয় দাও।
উঃ মধ্যযুগের আরাকান রাজের অমাত্য ছিলেন মাগন ঠাকুর।মূলত তার নির্দেশেই কবি সৈয়দ আলাওল “পদ্মাবতী” নামক মূল কাব্যটি অনুবাদ করেন।

৫) “বিস্মিত হইল বালা”- বালা বিস্মিত হলেন কেন?
উঃ সিন্ধুতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতীর রূপের বাহার দেখে সমুদ্র কন্যা পদ্মা, বিস্মিত হয়েছিলেন।

৬) “সখী সবে আজ্ঞা দিল”- বক্তা তার সখীদের কি আজ্ঞা দিয়েছিলেন?
উঃ “সিন্ধুতীরে” শীর্ষক পাঠ্য অংশে বক্তা অর্থাৎ সমুদ্র কন্যা পদ্মা তার সখীদের, পদ্মাবতীসহ তার চার সখীদের উদ্যানের মাঝে নিয়ে গিয়ে সেবা সুশ্রূষা করার অজ্ঞা দিয়েছিলেন।

৭) “কন্যারে ফেলিলো যথা”- কন্যাকে কোথায় ফেলা হলো?
উঃ আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের “সিন্ধুতীরে” নামক পাঠ্য অংশে কন্যা অর্থাৎ চিতোরের রাজা রত্ন সেনের স্ত্রী পদ্মাবতীকে সমুদ্রের মাঝারে অর্থাৎ মাঝখানে ফেলা হয়েছিল।

৮) “অতি মনোহর দেশ”- দেশকে মনোহর বলার কারণ কি?
উঃ সমুদ্রের মাঝারে যে দিব্যপুরী স্থান রয়েছে, সেই স্থান অতি মনোহর। কারণ সেখানে কোন দুঃখ কষ্ট নেই। সেখানকার অধিবাসীরা সর্বদা ধর্ম আচরন এবং সৎ আচরণ করে থাকেন।

৯) “উদ্যানের মাঝে নিল”- কারা কাকে উদ্যানের মাঝে নিল?
উঃ “সিন্ধুতীরে” নামক কাব্যাংশে, সমুদ্র কন্যা পদ্মার সখীরা পদ্মাবতীসহ তার চার সখীকে উদ্যানের মাঝে নিল, তাদের সেবা সুশ্রূষা করার জন্য।

১০) “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস”- ‘মাঞ্জস’ কথার অর্থ কি?
উঃ ‘মাঞ্জস’ কথার অর্থ হল নৌকা।

বহু বিকল্পধর্মী প্রশ্ন উত্তর

১) “বিস্মিত হইল বালা”- এখানে “বালা” হলেন- ক)পদ্মাবতী খ)পদ্মা গ) কন্যা ঘ)রম্ভা উঃ) খ) পদ্মা

২) “মোহন্ত …. শুনি”- মোহন্ত শব্দের অর্থ-  ক) দেবালয় খ)পূজারী গ) দেবমন্দির পরিচালক সন্ন্যাসী ঘ)মহান ব্যক্তি উঃ) গ) দেব মন্দির পরিচালক সন্ন্যাসী

৩) “নাহি …. দুঃখ ক্লেশ”- কোথায় দুঃখ ক্লেশ নেই? ক) রাজপুরীতে খ)স্বর্গপুরীতে গ)দিব্যপূরীতে খ) সিন্ধুতীরে উঃ) গ) দিব্যপুরীতে

৪) পদ্মা কার কাছে কৃপা প্রার্থনা করেছিল? ক) ঈশ্বরের কাছে গ) মাগন গুনীর কাছে গ)মোহন্তের কাছে ঘ)নিরঞ্জন এর কাছে। উঃ ঘ) নিরঞ্জন এর কাছে

৫) “নিপতিত মনোরোমা”- “মনোরমা” হলেন- ক) লক্ষ্মী খ) রম্ভা গ) সরস্বতী ঘ) পদ্মাবতী উঃ ঘ) পদ্মাবতী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Read More

Recent